পুলিশের কাজ অপরাধীকে খুঁজে বের করা এবং অপরাধের বিচার নিশ্চিত করা। কিন্তু পুলিশই যদি অপরাধে জড়িয়ে পড়ে, তাহলে সেই ঘটনার তদন্ত কীভাবে হবে?
আর অপরাধের প্রমাণ মুছে ফেলতে যদি তদন্তকারীরাই মরিয়া হয়ে ওঠেন, তাহলে সত্য সামনে আসবে কীভাবে? এমনই এক টানটান গল্প নিয়ে তৈরি হয়েছে মালয়ালম সিনেমা ‘প্রথমা দৃষ্টিয়া কুট্টাকার’ (Pradhama Drishtiya Kuttakkar)।
পার্বতী থিরুভোথু অভিনীত এই ক্রাইম থ্রিলার এখন দেখা যাচ্ছে নেটফ্লিক্সে।
কী নিয়ে তৈরি ছবির গল্প?
ছবির গল্পের কেন্দ্রে রয়েছেন আলিনা। চরিত্রটিতে অভিনয় করেছেন পার্বতী থিরুভোথু। স্বামীর মৃত্যুর পর সহানুভূতিমূলক নিয়োগের মাধ্যমে কেরল পুলিশের চাকরি পান তিনি। নতুন কর্মজীবনে যোগ দেওয়ার পর সহকর্মীদের সঙ্গে কাজ শুরু করেন আলিনা।
কিন্তু একটি ঘটনা সবকিছু বদলে দেয়। সন্দেহজনক আচরণের কারণে এক ব্যক্তিকে থানায় নিয়ে এসে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছিল। সেই সময় হঠাৎ গুলি চলে এবং ওই ব্যক্তির মৃত্যু হয়। এরপর শুরু হয় আসল বিপদ।
থানায় উপস্থিত চার পুলিশ সদস্যের মধ্যে কে গুলি চালিয়েছিলেন, তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। একই সঙ্গে কীভাবে ঘটনাটি আড়াল করা যায়, সেই চিন্তাও তাঁদের গ্রাস করে।
নিজেদের বাঁচাতে গিয়ে তাঁরা এমন এক পরিস্থিতিতে জড়িয়ে পড়েন, যেখান থেকে বেরিয়ে আসা ক্রমেই কঠিন হয়ে ওঠে।
তদন্তে নামেন অভিজ্ঞ পুলিশ কর্মকর্তা
ঘটনাটির তদন্তের দায়িত্ব পান ক্রাইম ব্রাঞ্চের অভিজ্ঞ কর্মকর্তা হ্যারিস মিরান। এই চরিত্রে অভিনয় করেছেন বিজয়ারাঘবন। দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা থেকে তিনি মানুষের কথার অসংগতি ধরতে পারেন। তাই পুলিশ সদস্যদের দেওয়া বয়ান তাঁর কাছে পুরোপুরি বিশ্বাসযোগ্য মনে হয় না।
এরপর শুরু হয় দুই পক্ষের বুদ্ধির লড়াই। একদিকে নিজেদের অপরাধ লুকিয়ে রাখতে চান থানার চার পুলিশ সদস্য, অন্যদিকে সত্য খুঁজে বের করতে তদন্ত চালিয়ে যান হ্যারিস।
এই জায়গাতেই ছবিটি সাধারণ পুলিশি তদন্তের গল্প থেকে আলাদা হয়ে ওঠে। কারণ এখানে তদন্তের নিয়মকানুন জানা মানুষরাই সেই নিয়মকে কাজে লাগিয়ে নিজেদের বাঁচার পথ খুঁজছেন।
‘দৃশ্যম’-এর কথা মনে করাবে?
ছবিটির গল্পে অপরাধ আড়াল করার চেষ্টা এবং তদন্তকারীদের কয়েক ধাপ এগিয়ে থাকার লড়াই থাকায় অনেকেরই ‘দৃশ্যম’ ছবির কথা মনে পড়তে পারে। তবে দুটি ছবির গল্প এক নয়। ‘প্রথমা দৃষ্টিয়া কুট্টাকার’-এর বিশেষত্ব হলো, এখানে সন্দেহের কেন্দ্রে রয়েছেন পুলিশ সদস্যরাই।
ছবিটি শুধু কে অপরাধ করেছেন, সেই প্রশ্নের উত্তর খোঁজে না। বরং অপরাধে জড়িয়ে পড়ার পর মানুষ কীভাবে নিজের কাজকে যুক্তি দিয়ে ঠিক প্রমাণ করতে চায়, সেই বিষয়টিও তুলে ধরে।
আইন রক্ষা করার দায়িত্ব যাঁদের, তাঁরাই যখন আইন ভাঙেন, তখন ন্যায়বিচারের প্রশ্ন কতটা জটিল হয়ে উঠতে পারে, তা গল্পের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
অভিনয়ে নজর কেড়েছেন পার্বতী ও বিজয়ারাঘবন
আলিনা চরিত্রে পার্বতী থিরুভোথুর অভিনয় ছবির অন্যতম আকর্ষণ। নতুন চাকরি, ব্যক্তিগত জীবনের দায়িত্ব এবং বিপজ্জনক পরিস্থিতির মধ্যে আটকে পড়া একজন পুলিশ সদস্যের চাপ তিনি অভিনয়ে ফুটিয়ে তুলেছেন।
অন্যদিকে, অভিজ্ঞ তদন্তকারী হ্যারিসের চরিত্রে বিজয়ারাঘবনও নজর কাড়েন। তাঁর চরিত্রটি খুব বেশি নাটকীয় না হয়েও নিজের উপস্থিতি দিয়ে তদন্তের উত্তেজনা বাড়ায়।
এ ছাড়া ছবিতে রয়েছেন ম্যাথিউ থমাস, সিদ্ধার্থ ভরথন, উন্নিমায়া প্রসাদ এবং আজিস নেদুমাঙ্গাদ। প্রত্যেকের চরিত্রের পেছনে আলাদা গল্প রয়েছে, যা মূল রহস্যকে আরও জটিল করে তোলে।
ছবিটি কি দেখার মতো?
পরিচালক শাহাদ নিলাম্বুর ছবিটিকে এমনভাবে এগিয়ে নিয়েছেন, যেখানে শুরু থেকেই মূল ঘটনা দ্রুত সামনে আসে। এরপর একের পর এক সন্দেহ, নতুন তথ্য এবং পরিস্থিতির পরিবর্তন দর্শককে গল্পের সঙ্গে ধরে রাখে।
তবে ছবিটির দ্বিতীয়ার্ধে কিছু ঘটনা দ্রুত ব্যাখ্যা করা হয়েছে বলে সমালোচকদের একাংশ মনে করেছেন। কিছু জায়গায় গল্প আরও সংক্ষিপ্ত হলে গতি ভালো হতে পারত। তা সত্ত্বেও পুলিশের ভেতরের অপরাধ, তদন্তের চাপ এবং নৈতিকতার জটিল প্রশ্ন ছবিটিকে আলাদা পরিচয় দিয়েছে।
‘প্রথমা দৃষ্টিয়া কুট্টাকার’ তাঁদের জন্য ভালো পছন্দ হতে পারে, যাঁরা রহস্য, অপরাধের তদন্ত এবং শেষ পর্যন্ত সত্য কীভাবে সামনে আসে, তা নিয়ে তৈরি থ্রিলার দেখতে পছন্দ করেন। তবে গল্পের বেশ কিছু মোড়ের কারণে সিনেমাটি সম্পর্কে আগে থেকে বেশি জেনে না দেখাই ভালো।
২০২৬ সালের ১১ সেপ্টেম্বর প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাওয়া ছবিটি এখন নেটফ্লিক্সে স্ট্রিমিং হচ্ছে। মালয়ালম ক্রাইম থ্রিলারের ভক্ত হলে ছবিটি আপনার দেখার তালিকায় রাখতে পারেন।






