বলিউডের পুরোনো বিতর্কে নতুন করে আগুন জ্বালালেন অভিনেত্রী তনুশ্রী দত্ত। তাঁর দাবি, ২০১৮ সালে #MeToo আন্দোলনের সময় তাঁকে আক্রমণ করে একের পর এক অভিযোগ তোলার জন্য অভিনেত্রী রাখি সাওয়ন্তকে দুই থেকে আড়াই লাখ টাকা দিয়েছিলেন নানা পাটেকর।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক ভিডিওতে এমন অভিযোগ করেছেন তনুশ্রী। তবে তাঁর এই দাবির পক্ষে স্বাধীনভাবে যাচাই করা কোনো প্রমাণ এখনো সামনে আসেনি। রাখি সাওয়ন্ত ও রাজশ্রী মোরের পক্ষ থেকেও এ বিষয়ে নতুন করে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
তনুশ্রীর এই মন্তব্য এমন এক সময়ে সামনে এসেছে, যখন নানা পাটেকরকে ঘিরে পুরোনো বিতর্ক আবার আলোচনায়।
২০১৮ সালে #MeToo আন্দোলনের সময় ‘হর্ন ওকে প্লিজ’ ছবির শুটিংয়ে নানা পাটেকারের বিরুদ্ধে যৌন হেনস্থার অভিযোগ এনেছিলেন তনুশ্রী।
সেই অভিযোগের পর অভিনেত্রী রাখি সাওয়ন্ত প্রকাশ্যে তনুশ্রীর বিরুদ্ধে কথা বলেন এবং তাঁর বক্তব্য নিয়ে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ শুরু হয়।
এবার সেই পুরোনো ঘটনার পেছনে অর্থ লেনদেনের অভিযোগ তুললেন তনুশ্রী। বিষয়টি নিয়ে আনন্দবাজার অনলাইনসহ একাধিক ভারতীয় সংবাদমাধ্যম প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।
রাখিকে টাকা দেওয়ার অভিযোগে কী বললেন তনুশ্রী?
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিওতে তনুশ্রী দাবি করেন, রাখি তাঁর বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলনে যেসব অভিযোগ করেছিলেন, সেগুলোর জন্য তিনি নানা পাটেকারের কাছ থেকে টাকা পেয়েছিলেন।
তনুশ্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, রাখির একসময়ের ঘনিষ্ঠ বন্ধু রাজশ্রী মোরে তাঁকে এ বিষয়ে জানিয়েছিলেন।
তনুশ্রীর দাবি, সংবাদ সম্মেলন করার প্রায় দুই দিন আগে রাজশ্রীর গাড়িতে করে রাখি নানা পাটেকারের মুম্বাইয়ের বাড়িতে গিয়েছিলেন।
সেখান থেকে নগদ দুই থেকে আড়াই লাখ টাকা নিয়ে আসেন তিনি বলে অভিযোগ করেছেন তনুশ্রী। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, রাজশ্রী মোরে এই ঘটনা আরও কয়েকজনের সামনেও জানিয়েছিলেন।
তবে এখানে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, টাকা নেওয়ার এই ঘটনাটি তনুশ্রীর দাবি মাত্র। এর সত্যতা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি। রাজশ্রী মোরে নিজে প্রকাশ্যে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন—এমন তথ্যও এখনো পাওয়া যায়নি।
‘১৫টি সংবাদ সম্মেলন করে আমার বিরুদ্ধে কথা বলেছিলেন’
তনুশ্রী আরও অভিযোগ করেন, #MeToo বিতর্কের সময় রাখি তাঁর বিরুদ্ধে প্রায় ১৫টি সংবাদ সম্মেলন করেছিলেন। এসব বক্তব্য ও ভিডিও তাঁকে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করে তুলেছিল বলে দাবি করেছেন অভিনেত্রী।
তাঁর ভাষ্য, সেই সময় তিনি প্রথমে মনে করেছিলেন, রাখি হয়তো আলোচনায় থাকার জন্য তাঁর বিরুদ্ধে নানা কথা বলছেন। পরে রাজশ্রী মোরের কাছ থেকে অর্থ লেনদেনের কথা জানতে পারেন বলে দাবি করেন তিনি।
তনুশ্রীর অভিযোগ, নানা পাটেকার নিজে সামনে না এসে অন্যদের ব্যবহার করে তাঁর বিরুদ্ধে পরিস্থিতি তৈরি করেছিলেন।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে নানা পাটেকার বা রাখি সাওয়ন্তের কাছ থেকে নতুন কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। নানা পাটেকার ২০১৮ সালে তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা যৌন হেনস্থার অভিযোগ অস্বীকার করেছিলেন।
২০১৮ সালের #MeToo বিতর্কে কী ঘটেছিল?
এই বিতর্কের শুরু ২০১৮ সালে। তনুশ্রী দত্ত অভিযোগ করেছিলেন, ২০০৮ সালে ‘হর্ন ওকে প্লিজ’ ছবির একটি গানের শুটিংয়ের সময় নানা পাটেকার তাঁর সঙ্গে অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণ করেছিলেন।
প্রায় এক দশক পর বিষয়টি প্রকাশ্যে আনায় ভারতীয় চলচ্চিত্রশিল্পে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। এর পর আরও অনেক নারী কর্মক্ষেত্রে যৌন হয়রানির অভিজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
ফলে তনুশ্রীর অভিযোগ ভারতের #MeToo আন্দোলনের অন্যতম আলোচিত ঘটনায় পরিণত হয়।
সেই সময় রাখি সাওয়ন্ত তনুশ্রীর বক্তব্যের বিরোধিতা করে সামনে আসেন। তিনি তনুশ্রীর বিরুদ্ধে পাল্টা অভিযোগও করেছিলেন এবং দাবি করেছিলেন, ছবির গানের শুটিং শেষ করতে তনুশ্রীর পরিবর্তে তাঁকে ডাকা হয়েছিল। দুই অভিনেত্রীর বক্তব্য ঘিরে তখন গণমাধ্যমে ব্যাপক বিতর্ক তৈরি হয়।
নানা পাটেকার অবশ্য শুরু থেকেই তনুশ্রীর অভিযোগ অস্বীকার করেন। পরে পুলিশ পর্যাপ্ত প্রমাণ না পাওয়ার কথা জানিয়ে মামলাটি বন্ধ করার প্রতিবেদন দেয়। ২০২৫ সালে আদালতেও এ-সংক্রান্ত আইনি কার্যক্রম নিয়ে সিদ্ধান্ত আসে। তাই পুরোনো ঘটনাটির ক্ষেত্রে অভিযোগ, পাল্টা বক্তব্য ও আইনি প্রক্রিয়ার ফলাফলকে আলাদা করে দেখা জরুরি।
এখন তনুশ্রীর নতুন অভিযোগের পর প্রশ্ন উঠেছে, ২০১৮ সালের সেই বিতর্কের পেছনে সত্যিই কোনো অর্থ লেনদেন হয়েছিল কি না। তবে এ বিষয়ে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর মতো যাচাই করা তথ্য এখনো সামনে নেই।
রাখি সাওয়ন্ত ও রাজশ্রী মোরে প্রকাশ্যে প্রতিক্রিয়া জানালে বিষয়টি নিয়ে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যেতে পারে। আপাতত তনুশ্রীর এই দাবি বলিউডের পুরোনো #MeToo বিতর্ককে আবারও আলোচনায় ফিরিয়ে এনেছে।

